ইবনে মান্নান : দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারালেও এখন সাবেক কর্মস্থলে প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ হারাননি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) আত্মস্বীকৃত এক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। সরকারের এই সেবা সংস্থা থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের নিবন্ধন, পুননিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদানসহ নানা কাজে এখনও পর্দার অন্তরাল থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন এই দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা। চলতি বছরে নিরাপদ সড়ক সংক্রান্ত সামাজিক আন্দোলন ও পরবর্তীতে সরকার ও প্রশাসনের নানা পদক্ষেপের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে বিআরটিএ। বিআরটিএ’র বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়মের উপর সরেজমিন অনুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে আসে এই কর্মকর্তার নাম। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে বিআরটিএ’র একটি সূত্র থেকে উঠে আসে নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের সাবেক সহকারী পরিচালক আমিনুল হক সরকারের নাম। সূত্রের দেওয়া তথ্য ও বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান করা হলে উঠে আসে আরও ভয়াবহ চিত্র। দিনাজপুরের আশরাফ আলী সরকারের পুত্র আমিনুল হক সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এমন অভিযোগ রয়েছে চাকরিতে যোগদানের বছর থেকেই।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের ড্রাইভিং লাইসেন্সের ২১ হাজারেরও বেশি নথি গায়েব করে শত শত কোটি সরকারের রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে বহিষ্কৃত হন সহকারী পরিচালক আমিনুল হক সরকার। পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া দিনাজপুরের আমিনুল হক সরকার চাকরি জীবনের শুরু থেকেই ছিলেন আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ডুবে। অধিকাংশ সময় ঢাকা বিভাগের অধীনে বিভিন্ন সার্কেলে নিযুক্ত থাকায় রাতারাতি দুর্নীতির বরপুত্রদের একজনে পরিণত হন আমিনুল। বিগত বিএনপি জামাত জোট সরকারের আমলে আমিনুল পরিণত হন অধরা দুর্নীতিবাজদের একজনে। মুলত বিএনপি জামাত ঘরোনার এই কর্মকর্তা বিগত ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গঠিত ট্রুথ কমিশনে মুসলেকা দিয়ে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজের তালিকায় নাম লেখান। ওই সময় প্রায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে সেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে কানাডায় পাড়ি জমান আমিনুল।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসলে ২০০৯ সালে দেশে ফিরে রাতারাতি আওয়ামীলীগপন্থী হয়ে যান আমিনুল। ট্রুথ কমিশনে মুচলেকা দেওয়া অন্যান্য দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে এক হয়ে উচ্চ আদালতের আদেশে পুনরায় চাকরিতে ফেরেন আমিনুল। চাকরিতে ফিরেই নিযুক্ত হন নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক হিসেবে।

২১ হাজার নথি গায়েব করলেও বিআরটিএ’র নারায়ণগঞ্জের প্রাক্তন সহকারী পরিচালক আমিনুল হক সরকারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০০৯ এর ২৪ মে তারিখ হতে ২০১১ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত সময়ে ৫২১টি নথি গায়েবের তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন। নথি গায়েবের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেলে অনুসন্ধান শেষ করতে পারেনি সংস্থাটি। গায়েব হওয়া নথি উদ্ধারে বিআরটিএ’কে বার বার নোটিশ করলেও তা দুদককে দিতে পারেনি বিআরটিএ। অবশেষ তদন্ত ওই পর্যায়ে স্থগিত করতে বাধ্য হয় দুদক। তবে জড়িত সহকারী পরিচালক আমিনুল হক সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় দুদক। দুদকের নির্দেশনার পর বিআরটিএ আমিনুল হক সরকারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, গয়েব হওয়া নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে মোটরযান লাইসেন্স, মোটরযান কর, নিবন্ধীকরণ, মালিকানা বদলি, ফিটনেস সার্টিফিকেট ইস্যু ও নবায়ন, রুট পারমিট ইস্যু ও নবায়ন, মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন ও মোটর ড্রাইভিং স্কুল রেজিস্ট্রেশন, ইনস্ট্রাক্টর লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, প্রাক-রেজিস্ট্রেশন পরিদর্শন ফি বাবদ আট খাতের নথিপত্র।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, বিআরটিএ’র নারায়ণগঞ্জ সার্কেল অফিসে ২০০৯ এর ২৪ মে হতে ২০১১ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত সময়ে যানবাহন শাখার ৫২১টি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি সরকারি কোষাগারে জমা না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ ছিল। এছাড়া ঢাকা জোনের নথিপত্রসহ কয়েক হাজার নথি গায়েবের অভিযোগ ছিল। ২০১১ সালে উত্থাপিত এই অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক। প্রাথমিকভাবে দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানেও উদ্ধার হয়নি হারিয়ে যাওয়া নথিপত্র। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার অনুসন্ধান কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শেষ পর্যন্ত নথিপত্র গায়েবের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে সাজা দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে দুদকের পক্ষ থেকে। দুদকের সুপারিশে আমিনুল হক সরকারকে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় শাস্তির অধীন বহিষ্কার করলেও এখনও বহাল তবিয়তে প্রভাব বজায় রেখেছেন দুর্নীতির এই বরপুত্র।

ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ সার্কেলে রয়েছে আমিনুল হক নিয়ন্ত্রিত একাধিক সিন্ডিকেট। যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, যানবাহনের মালিকানা পরিবর্তন, চোরাই ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা গাড়ির নিবন্ধন করানো ও ফিটনেস সনদ প্রদানের মত সেবা প্রাপ্তিতে গ্রাহকের উপর প্রভাব বিস্তার করছে এসব সিন্ডিকেট।

সম্প্রতি আমিনুল হক সরকারের সহযোগীতায় রাজধানীর বেশ কিছু লক্কর-ঝক্কর বাস ও যানবাহনের ফিটনেস সনদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগের অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া যায় আরও ভয়াবহ তথ্য। একই নম্বর ও ঠিকানার একাধিক যানবাহনকে নিবন্ধন করিয়ে দিচ্ছে আমিনুল হকের এই সিন্ডিকেট। বিশেষ করে চোরাই ও রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আনার যানবাহনের ক্ষেত্রে এই অসৎ কাজটি করছে তারা। আর কাজটি এত নিখুত ভাবে করছে, যে মূল সার্ভারে যাচাই ছাড়া তা ধরা সম্ভব নয়।

আমিনুল হক সরকারের সঙ্গে একই ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, আমিনুল চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেও এখনও প্রধান কার্যালয় ও ঢাকার আশপাশের সার্কেল অফিসে প্রভাব বজায় রেখেছে। গাড়ির লাইসেন্স প্রদান, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানসহ বিআরটিএ’র প্রদান করা বিভিন্ন সেবাতে হস্তক্ষেপ করে আমিনুল।

তিনি বলেন, আমিনুলের নিয়ন্ত্রিত একটি গ্রুপ (দালাল, কর্মকর্তা, কর্মচারী) চোরাই গাড়ির নিবন্ধন, অদক্ষদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, লক্কর-ঝক্কর গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট পাইয়ে দেওয়ার মত কাজে জড়িত রয়েছে।

বিআরটিএ ও দুদকের দেওয়া তথ্যানুযায়ি, আমিনুল হক সরকারের জন্মস্থান দিনাজপুর ও বর্তমান বসবাসের স্থান রামপুর বনশ্রী আবাসিক এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। সরেজমিনে অনুসন্ধানে আমিনুল হকের নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়। বনশ্রীতে নিজের সাত তলা ভবনসহ ওই এলাকায় বিভিন্ন ব্লক প্রায় ১০টির মত ফ্লাট রয়েছে। বনশ্রী কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশের বাণিজ্যিক প্লটটিও সম্প্রতি আমিনুল হক ক্রয় করে সেখানে মার্কেট করার পরিকল্পনার করছে বলেও প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া পার্শবর্তী আফতাব নগর আবাসিক এলাকায় তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়দের নামে বেশ কয়েকটি প্লট রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া যায়। গাজীপুরে কয়েক বিঘা সম্পত্তিও রয়েছে আত্মস্বীকৃত এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার নামে।

আমিনুলের দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধানে তার বর্তমান নিবাস বনশ্রীতে অনুসন্ধান চালালে জোবায়ের নামে তার এক সহযোগীর নাম উঠে আসে। স্থানীয়রা জানান, হজ এজেন্সির নামে দালালী, প্লট-ফ্লাট কেনা-বেচা, ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার  মত মধ্যস্থতাকারীর এই জোবায়ের আমিনুল হকের সকল অপকর্মের প্রধান সহযোগী। পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ পেতে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিদের পাঠানো হয় জোবায়েরের কাছে। এসময় জোবায়ের মনের অজান্তেই আমিনুল হক সরকার সম্পর্কে দেন নানা তথ্য। জানান তার বর্তমান প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পর্কেও। আর আমিনুলের সকল অবৈধ সম্পত্তিরও সকল হিসাবও রয়েছে জোবায়েরের কাছে।

তবে এসব বিষয়ে কথা বলতে চাইলে আমিনুল হক সরকার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। একই সঙ্গে প্রতিবেদকের মোবাইল নম্বর ব্লক করেও রাখেন আমিনুল।

এবিষয়ে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই আমিনুল হক সরকারের ব্যাপারে বিআরটিএ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বরখাস্ত হয়েছেন। তবে তার নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএ’র কিছু কর্মকর্মা-কর্মচারী রয়েছেন এমন অভিযোগের কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।

নির্যাতনের অভিযোগে মরহুম ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজার সংবাদ সম্মেলন

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব মো. আমজাদ আলী সরকারের মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে তার দুই সন্তান ও বিধবা স্ত্রীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মৃত্যুর পূর্বেই তার পেনশন ও পারিতোষিকের নমিনি হিসেবে স্ত্রীকে মনোনয়ন করে রাখলেও তাতেও বাধ সেজেছেন তার ভাইয়েরা। আমজাদ আলী সরকারের মেজভাই আজহার আলী সরকার, সেজ ভাই বিআরটিএ থেকে দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কার হওয়া আমিনুল হক সরকার এবং ছোট ভাই আলতাফ আলী সরকারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্রাব) অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মৃত আমজাদ আলী সরকারের স্ত্রী মোসা. আমিনা পারভিন এবং দুই পুত্র মো. আশফাক আলী সরকার সাগর ও মো. আহসান আলী সরকার সৈকত।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে আমিনা পারভিন বলেন, স্বামীর মৃত্যুর দিন থেকেই তার স্বামীর ভাই বোনেরা সম্পত্তি ও টাকা পয়সা আত্মসাতের ষড়যন্ত্র শুরু করে। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুতে যখন আমি ও আমার সন্তানরা শোকে স্তব্ধ, যখন আমার স্বামীর দাফনও শেষ হয়নি ঠিক তখন আমার দেবর ননদেরা ব্যস্ত ছিলো ঘর থেকে টাকা পয়সা, বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল সরিয়ে ফেলার কাজে। স্বামীর মৃত্যুর কিছু দিন পর থেকেই প্রকাশ পেতে থাকে আমার শ^শুরবাড়ির আত্মীয়দের হয়রানী ও নির্যাতন। স্বামীর পেনশন ও পারিতোষিক সুযোগ সুবিধা পেতে তার মনোনীত নমিনি হিসেবে আমি যখন সচিবালয়ে যোগাযোগ শুরু করি ঠিক তখনই তাদের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি আচ করতে পারি। সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ি স্বামীর পেনশনের অর্থ পাওয়ার সকল অধিকার থাকলেও তাতে বাধ সাজেন আমার শ^শুর বাড়ির স্বজনরা। আমার সেজ দেবর আমিনুল হক সরকার তাদের জীবিত পিতা মো. আশরাফ আলী সরকারকে পেনশনের টাকার একমাত্র হকদার দাবি করে মন্ত্রণালয়ে একটি আপত্তিপত্র দাখিল করেন।
আমিনা পারভিন বলেন, স্বামীর পেনশন ও পারিতোষিকের অর্থ পেতে যখন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করি, তখন ওয়ারিশ সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান করেই আমাকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এরপর আমি আমার শ^শুর ও দেবর ননদদের সঙ্গে কথা বললে তারা নগদ দুই লাখ টাকা ও স্বামীর পেনশন থেকে আরও ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন। এই অর্থ পেলে তারা সকল আপত্তি তুলে নিবেন এবং আমার সন্তানদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বুঝিয়ে দিবেন বলে শর্ত দেন। আমি তাদের শর্তে রাজি হলে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সমঝোতাপত্রও উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে করা হয়। আর আমাকে নগদ দুই লাখ টাকা দেওয়া ছাড়াও দিতে হয় ১০ লাখ টাকা করে চারটি চেক। শর্ত থাকে স্বামীর পেনশনের টাকা থেকে ধাপে ধাপে টাকা দিলেই তারা চেক ফেরত দিবে। আমি প্রথম কিস্তি পেনশনের অর্থ পাওয়া মাত্রই তাদের ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করি এবং সেই সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির বাকি শর্তগুলোও তাদের বাস্তবায়ন শুরু করতে বলি। কিন্তু তারা তাদের বাকি শর্ত না মেনে আমার বিরুদ্ধে দুটি চেক ডিজওনারের মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
তিনি বলেন, যখন এমন অবস্থাতে জীবন যাপন করছি, ঠিক তখনই আমার সেঝ দেবর আমিনুল হক সরকারের দুর্নীতি নিয়ে বেশ কয়েকটি পত্রিকায় খবর ছাপা হয়। এসব খবর ছাপা হওয়ার পেছনে আমার যোগসাজস আছে ধারণা করে তারা আমার উপর অত্যাচার ও নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমিনা পারভিনের এমন অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত আমিনুল হক সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

(Visited 15 times, 1 visits today)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *