রানা হানিফ : গাজীপুর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ইনচার্জ নিয়োগ নিয়ে বড় ধরণের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কমর উদ্দিনের একচ্ছত্র ক্ষমতার ব্যবহার ও অনিয়মের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাকরিনীতিমালা লঙ্ঘন করে দীর্ঘ ১৬ বছর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ইনচার্জের দায়িত্বে ছিলেন সরদার তারিক মাহমুদ। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে ওই পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নার্সিং ও মিডওয়াইফাইরি অধিদফতরের মহাপরিচালক গত বছর ১৩ জুন এক দাফতরিক আদেশের মাধ্যমে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্স ও অন্যান্য নার্সিং কর্মকর্তাদের ২ বছর পর পর ইনচার্জের দায়িত্ব পরিবর্তন করার আদেশ দেন। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জুন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো কমর উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জরুরী বিভাগের ইনচার্জ পদ থেকে সরদার তারিক মাহমুদকে অব্যাহতি দিয়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে স্থলাভিষ্কিক্ত করা হয়। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমান দুই বছর ওই দায়িত্বে থাকা তো দূরের কথা মাত্র চার মাসের মাথায় তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহিত দিয়ে হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক মো. কমর উদ্দিন নিজের একক সিদ্ধান্তে সরদার তারিক মাহমুদকে পুনরায় জরুরী বিভাগের ইনচার্জের দায়িত্ব দেন।
অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ ১৬ বছর জরুরী বিভাগের ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিলেন। রোগীর খাবারের মান, সরকারি ওষুধ খোলাবাজারে বিক্রি, অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়সহ নানা অসৎ কাজের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকার উপার্জন করেন তারিক মাহমুদ। আর তার এসব কাজে সরাসরি হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক মো. কমর উদ্দিন জড়িত বলে একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. কমর উদ্দিনকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না, তবে যদি আমার সাক্ষাৎকার ছাপাতে চান, তবে সরাসরি অফিসে এসে কথা বলুন।”

(Visited 5 times, 1 visits today)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *