‘২০ মিনিট ধরে বঙ্গবন্ধুর সামনে মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম’

‘মাদার্স ওয়াক্স মিউজিয়াম’ নামটা অনেকের কাছেই পরিচিত। অনেকেই হয়তো গেছেন সেখানে। এটি কলকাতার এমন এক জাদুঘর, যেখানে মোমের অসাধারণ সব মূর্তি রয়েছে। বিভিন্ন দেশের সেলিব্রিটি এবং গুণী ব্যক্তিদের দেখতে পাবেন সেখানে। তাদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন। ছবিও তুলতে কোনো দোষ নেই।

আমি কিছুদিন আগে কলকাতায় যাই। তখন পরিচিত একজন আমাকে কিছু জায়গার নাম বলে দেয়। এসব জায়গায় ঘুরতে পারলে নাকি সফরটা সফল হবে। তার মধ্যে এই “Mother’s Wax Museum” এর নামও ছিলো।

তো যাইহোক, অবশেষে পৌঁছলাম কলকাতায়। সারাদিন জার্নির পর আর কোনোদিকে না তাকিয়ে সোজা হোটেলে গিয়ে ঘুম দেই। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হোটেলের ম্যানেজারের সহায়তায় একটি গাড়ি ভাড়া করি। যেহেতু আমি কলকাতার কিছুই চিনি না, সেজন্য গাড়ি ভাড়া করলাম। এতে অনেক সুবিধা হয়।

এরপর সকালের নাস্তা শেষে বেরিয়ে পরি। চালক আমাকে এক এক করে সবগুলো জায়গাতেই ঘোরাতে থাকলেন। বিভিন্ন জায়গায় আমি সারাদিন ধরে ঘুরেছি।

এরপর বিকেলে হোটেলের দিকে ফিরতে থাকি। আমি যে ট্যাক্সি চালককে নিয়েছিলাম, তিনি হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে বললেন, একটা জায়গায় যাওয়া হয়নি আমাদের। তিনি জানালেন মাদার্স ওয়াক্স মিউজিয়ামের কথা। কেবল সেখানেই নাকি যাওয়া বাকি ছিলো আমাদের।

এরপর চালক আমাকে নিয়ে গেলেন সেখানে। গিয়ে দুইশ ৫০ রুপিতে একটি টিকিট সংগ্রহ করলাম। ভেতরে প্রবেশ করতেই প্রথমেই চোখে পড়ে মহাত্মা গান্ধীকে। এরপর আস্তে আস্তে আরো অনেক পরিচিত মানুষের মোমের মূর্তি চোখে পড়ে। তাদের প্রায় সবাইকে টিভিতে দেখেছি কিংবা পাঠ্যপুস্তকে পড়েছি তাদের নাম। সুদক্ষ হাতে গড়া একেকটি মোমের মূর্তি। হুবহু আসল মানুষের মতোই।

ঘুরতে ঘুরতে আমার চোখ আটকে যায় আরেক স্ট্যাচুর ওপর। আমি প্রথমে চমকে উঠি। আমার চোখের সামনে জলজ্যান্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রায় ২০ মিনিট ধরে তার সামনে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছিলাম। তাকে বাস্তবে দেখিনি, কিন্তু কলকাতায় গিয়ে তার মোমের অবয়ব দেখে মুগ্ধ হয়েছি।

আমাদের বাংলাদেশ বহু গুণী মানুষের গর্ভধারিণী। বর্তমান প্রজন্ম অতীতের অনেক গুণীজনকেই চেনে না। আমাদের বাংলাদেশেও এমন একটি ‘ওয়াক্স মিউজিয়াম’ থাকলে কতই না ভালো হতো! সেই গুণী মানুষগুলোকে চোখের সামনে দেখার অনুভূতি পেত সবাই।

সেখান থেকে চলে আসার পর আমার বহুবার মনে হয়েছে, কোনোক্রমে যদি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে একবার বলতে পারতাম, আমাদের দেশেও একটা ওয়াক্স মিউজিয়াম দরকার। পৃথিবীর অন্যান্য ওয়াক্স মিউজিয়ামগুলো বেশ জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত। আমাদের দেশে একটা থাকলেই বা দোষ কী! যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাবে।

এনামুল কবির সুজনের জন্মদিন আজ

আজ বুধবার ইভেন্ট ও আইটি উদ্যোক্তা এনামুল কবির সুজনের জন্মদিন। তিনি রূপকথা প্রোডাকশন, রেডিও ১৬৩৪৩, বিডিস্টার২৪ ডটকম, মাইশপ ডটকম ডট বিডি, রূপকথা মিউজিক, ভ্রমণ ডটকম ডট বিডি এবং রূপকথা ইমপেক্স -এর কর্ণধার।

আজকের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই ইভেন্ট ও আইটি উদ্যোক্তা। পাশাপাশি তার আরেকটি পরিচয় হলো তিনি টেলিভিশন প্রযোজকও।

বেলজিয়াম বিএনপি নেতা ইভান সিকদারের বাবার ইন্তেকাল

জামান সরকার, হেলসিংকি থেকে: বেলজিয়াম বিএনপির সহসভাপতি ইভান সিকদার কবিরের বাবা আবদুল কুদ্দুস সিকদার গতকাল (শুক্রবার) দুপু্রে ঢাকার বাসাবোস্থ নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহিরাজিউন)।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, এক কন্যা এবং আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এক শোকবার্তায় ইভানের বাবার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি আহমেদ সাজা, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বাবু, সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক আলম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী নুর শামীমসহ দলীয় নেতাকর্মীরা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

কুয়েতে এক বাংলাদেশির আত্মহত্যা

কুয়েতে এক বাংলাদেশি প্রবাসী আত্মহত্যা করেছেন। দেশটির জাহরা এলাকায় নিজ ঘরের ভেতরে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই বাংলাদেশি।

প্রথমিক তদন্তে জানা গেছে ওই ব্যক্তি হতাশাজনিত ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা রোগে ভুগছিলেন। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে আইনী তদন্তের জন্য নিবন্ধিত করেছে।

আমি শিখে গেছি…

নিজেকে আড়াল করা…
কানাডিয়ান মানুষ অনেক ভদ্র এবং বিনয়ী এটা নতুন করে বলার কিছু নেই। মানুষের জীবনের ভিন্ন ভিন্ন কিছু স্তর আছে- শৈশব, কৈশর, তরুণ, যুবা, বয়স্ক, বৃদ্ধ। সময়ের সাথে সাথে অধিকাংশ মানুষই এভাবেই তার জীবনচক্র শেষ করেন। অধিকাংশ এ জন্যই বললাম, কারণ সৃষ্টিকর্তা সবার জন্য সবকিছু একরকম করে ঠিক করেননি। অন্য সবার মতো আমিও নিজে ও এই জীবনচক্রের শেষ পর্যন্ত যেতে চাই।

আমার চার পাশের বেশিরভাগ মানুষই অনেক পজিটিভ। যারা নেগেটিভ আছেন তাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগও নেই। সবাইতো আর একরকম হয় না। আমার নিজেকে বেশ পজিটিভ একজন মানুষ মনে হয়, কোনো নেগেটিভ কিছু হলে সহজে ভেঙে পড়ি না। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করতে থাকি। সফল না হলে ভাগ্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত করি।

আম্মু বেশ কিছু দিন অসুস্থ। কিছুই খেতে পারছিল না। আম্মুর মিষ্টি অনেক পছন্দ ছিল। একদিন নিজে মিষ্টি কিনে বাসায় এনে আম্মুকে খাওয়ালাম। সেই রাতেই আম্মুর হার্ট অ্যাটাক হলো। হাসপাতালে আম্মুকে নিয়েছিলাম ১৪ দিন। এর মধ্যে একদিনও হাসপাতাল থেকে বের হইনি, চোখের আড়াল হতে দেইনি একবারের জন্যও। এক একটি ইনজেকশনের খোঁচা যেন আমার নিজের কাছে বল্লমের খোঁচার মত মনে হত। ইনজেকশনের খোঁচায় আম্মুর দুটো হাত আর দুটো পায়ের পাতা কালো হয়ে গিয়েছিল। ব্যথায় আম্মুর চোখ দিয়ে নীরবে পানি গড়িয়ে পড়ত। আমি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতাম আর মনে মনে বলতাম, আম্মু, আমার ভালোবাসায় কোনো অন্যায় ছিল না। জানি থাকলেও আম্মুর চোখের পানি আড়াল করে আমাকে ক্ষমাই করে দিত।

জীবনচক্রে আম্মু এখন বয়স্ক। সময়ের আর জীবনের প্রয়োজনে এখন আমি আম্মুর থেকে অনেক দূরে, ঠিকমত কথাও হয় না প্রতিদিন। মাঝে মাঝে যখন শুনি আম্মুর শরীর ভালো নেই, বুকের কোনো এক কোণে শূন্যতা ভর করে। মস্তিষ্কের এক কোণে এক যুগ আগের সেই স্মৃতি ভেসে ওঠে। কিন্তু ঠিক আগের মত অস্থিরতা প্রকাশ করার সুযোগ, সময় আর পরিস্থিতি এখন আর আমার নেই। কারণ আমি এখন কানাডিয়ানদের মতো ভদ্রতা আর বিনয়ের সাথে নিজের অনুভূতি আড়াল করতে শিখে গেছি। শিখে গেছি ভুলে থাকতে কিছু প্রিয় মুখ। আমি শিখে গেছি অপ্রিয় সত্যকে আড়াল করতে। শিখে গেছি কীভাবে ভাগ্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত করতে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগে জনসভা ও মাইকিং বন্ধে আইনি নোটিশ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ও শাহবাগ মোড়ে জনসভা, মিছিল-মিটিং এবং মাইকিং বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ পাঁচজনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রপলিটনের পুলিশ কমিশনার, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র।

নোটিশে বলা হয়েছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ও শাহবাগ মোড়ে জনসভার কারণে শব্দ দূষণ এবং মাইকিংয়ের কারণে সুপ্রিম কোর্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া এই এলাকায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সচিবালয়সহ অসংখ্য হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এতে আরো বলা হয়, নোটিশ জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শাহবাগ মোড় জনসাধারণের ও যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এ কাজ করা না হলে হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট দায়ের করা হবে।

সালাহউদ্দিনের মামলার রায় ফের পেছাল

ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় পিছিয়েছে। আজ সোমবার রায় ঘোষণার তারিখ থাকলেও তা পিছিয়ে গেছে।

রায় ঘোষণার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৯ নভেম্বর। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের একটি আদালতে রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল।

এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ পেছাল।

বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশের অভিযোগে দেশটির ফরেনারস অ্যাক্টের আওতায় তিন বছর ধরে মামলা চলছে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

সাগর রুনি হত্যা মামলা: তদন্তে সাড়ে ছয় বছর

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত চলছে সাড়ে ছয় বছর ধরে। এখন পর্যন্ত অন্তত ষাটবার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য হয়েছে। তবে এখনো কোনো আসামিকেই সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত বা আটক করা তো দূরের কথা ওই দম্পতি যে খুন হয়েছে তার ‘মোটিভ’-ও স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি তদন্ত সংস্থা।

আজ সোমবার মামলায় প্রতিবেদন দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সহকারী পরিচালক পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ কোনো প্রতিবেদন দেয়নি।

প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, সাড়ে পাঁচ কেজি ওজনের নথি আদালতে উপস্থাপনের পর বিধি অনুযায়ী ঢাকা মহানগর হাকিম মোরশেদ আলম ভুইয়া ফের তারিখ রেখেছেন। আগামী ২৫ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য হয়েছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিজ ভাড়া বাসায় খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় বাসায় থাকা তাদের একমাত্র শিশু সন্তান সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী মাহি সরওয়াার মেঘ বেঁচে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন মামলা হয়। প্রথমে তদন্তে নামে শের-এ-বাংলা নগর থানা পুলিশ। চারদিনের মাথায় মামলা হাতবদল হয় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে। এর ৬২ দিনের মাথায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ব্যর্থ হওয়ার কথা স্বীকার করলে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব।

এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছে কয়েকজন। কিন্তু কোনো আসামিকেই সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত বা আটক করতে পারেনি। কেন সাংবাদিক ওই দম্পতি খুন হয়েছে তার ‘মোটিভ’-ও এখনো অজানা। তা জানতে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন হওয়া দু’জনের লাশ তুলে ‘ভিসেরা’ (রাসায়নিক) পরীক্ষা এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ‘ফরেনসিক’ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগারে পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

অবশ্য তদন্তের দায়িত্বে থাকা বর্তমান কর্মকর্তা গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কিছু পয়েন্টে মামলার তদন্তের অগ্রগতি দাবি করে বলেছিলেন, বিভিন্ন আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে। গ্রিল কাটা এবং বিভিন্ন চোর ডাকাত, এ রকম সন্দেহভাজন ১৩০জনের মতো ব্যক্তিকে সন্দেহ করে তদন্ত করছি। ঘটনার সময় হারানো ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোনের ব্যাপারেও র‍্যাব বিটিআরসির সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। এগুলো কেউ চালু করলেই সন্ধান পাওয়া যাবে। বিভিন্ন বিষয়ই আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি।

তার আগের কর্মকর্তা র‌্যাব-এর সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ারেশ আলী দুই বছর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে আলামত পাঠানো হয়েছিল, তা থেকে কারো পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়নি। ঢাকা থেকে ২১ জন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা আলামতের নমুনার সঙ্গে মেলানোর জন্যও পাঠানো হয়। কিন্তু ২১ জনের মধ্যে কারো নমুনাই আলামতের ডিএনএ’র সঙ্গে মেলেনি।

এ মামলায় সন্দেহজনক আসামি হিসেবে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়েছে আটজন। এরা হলেন, রুনির বন্ধু তানভীর রহমান (বর্তমানে জামিনে), বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল, তানভীর ও আবু সাঈদ। আসামিদের প্রত্যেককে একাধিবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও তাদের মধ্যে কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।

প্রসঙ্গত, আলোচিত নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার কথা বলেছিলেন। তবে আগামী ৪৮ বছরেও এ মামলার সুরাহা হবে কিনা তা নিয়ে বর্তমানে সৃষ্টি হয়েছে সংশয়।